ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় করার উপায় ২০২২ – বাংলা টিউটোরিয়াল

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় করার উপায়

ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় করার উপায় — আমাদের দেশের প্রায় ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার পন্থা গুলো সম্পর্কে অবগত নয় । বেকার সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষা জীবন থেকে আয় করার ব্যাপারটা মানুষের নানাবিধ দিক থেকে সাহায্য করে। লেখাপড়ার খরচ, হাত খরচ এর ইনকাম যদি আপনি নিজেই জোগাড় করতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনি একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন। কোনো এক দার্শনিক বলেছিল, আপনি কোটিপতির সন্তান হলেও পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে শিখুন।  

আমাদের দেশের পার্ট টাইম চাকরি গুলোর অবস্থা অনেক বেশী খারাপ। যেখানে চাকরি পাওয়াটা রাতারাতি যুদ্ধ করার মতো। কিন্তু আপনি কি জানেন? ছাত্র অবস্থায় আপনি অনলাইন ব্যাবহার করেই আয় করতে পারবেন?

কি অবস্থা বন্ধুরা, আজকে পোষ্টে আমরা জানবো ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয়। ছাত্র অবস্থায় কি কি উপায় অবলম্বন করে টাকা আয় করা যায় এ বিষয়ের উপর আপনাদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করবো। আপনি যদি ছাত্র অবস্থায় আয় করতে চান অন্য সব আর্টিকেল বাদ দিয়ে পড়ে ফেলুন আজকের ব্লগটিকে।

ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় করার উপায়:

আমাদের প্রতি অবস্থায় সম্মুখীন হতে হয় অনলাইন এর উপর। মানুষ আগের তুলনায় এখন সবচেয়ে বেশী অনলাইন মুখী। কেউ কেউ ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার ক্ষেত্রেও অনলাইন কে বেশী প্রধান্য দিতে পছন্দ করে। অনলাইনে শিক্ষার পাশাপাশি আপনার জ্ঞান, দক্ষতা ও কাজের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। নিচে আমরা বেশ কিছু পদ্ধতি দিয়ে দিলাম। যেগুলোর মাধ্যমে ছাত্র অবস্থায় অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

০১- কনটেন্ট রাইটিং

অনলাইনে সহজেই টাকা ইনকাম করার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভালো একটি মাধ্যম হলো কন্টেন্ট রাইটিং। এখানে অনেক বেশী দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কনটেন্ট রাইটিং এর জন্য আপনার মেধার বিকাশ নুন্যতম থাকাটা বাঞ্চনিও। সৃজনশীলতা যদি পছন্দ করেন আপনার পথ অনেক বেশী সহজ হয়ে যাবে।

প্রতিটি ওয়েবসাইট এর মূল প্রাণ হিসেবে তার মাঝে থাকা কনটেন্ট কে গন্য করা হয়। ইন্টারনেটে আমরা যত ওয়েবসাইট, ব্লগ বা ভিডিও যা কিছুই দেখি না কেন। তার পিছনে রয়েছেন একজন রাইটার। কনটেন্ট রাইটিং এর বিভিন্ন ক্যাটাগেরি রয়েছে। যেমন-

  • স্ক্রিপ্ট রাইটিং
  • অ্যাফিলিয়েট রাইটিং
  • ব্লগ রাইটিং
  • নিউজ রাইটিং

ইত্যাদি অসংখ্য ক্যাটাগোরীর যে কোনো একটি অনুসরণ করে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

কনটেন্ট লিখে আয় কিভাবে করবেন?

কনটেন্ট লেখার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগোরি অনুযায়ী টাকার পরিমান কম বেশী হয়ে থাকে। বাংলা ও ইংরেজি এই দুই  ভাষাতেই লিখতে পারবেন। তবে ইংরেজি কনটেন্টের চাহিদা তুলনামূলক অনেক বেশী ও টাকার পরিমাণও বৃদ্ধি পায় প্রতিনিয়ত। যে কোনো বিষয়ে গভীর রিসার্চ করে সে বিষয়ে স্টাডি করে সেটার উপর নিজের মত করে সাজাবেন। যেমন: বর্তমানে আপনি যে আমার লেখাটি পড়ছেন, এটি একটি টেক রিলেটেড কনটেন্ট। নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড ফোকাস করে লিখে যাচ্ছি।

বাংলা কনটেন্ট লিখেও আয় করা যায় সেক্ষেত্রে আপনি “অর্ডিনারী আইটি” “ট্রিকবিডি” “জে আইটি” ইত্যাদি সাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করে আয় করতে পারবেন। আপনি যদি একদম দক্ষ হয়ে যান।তাহলে ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে যেমন- ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার.কম, আপওয়ার্ক সাইটে গিগ পাবলিশ করে বায়ারদের কনটেন্ট লিখে আয় করতে পারবেন।

এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো থেকে অনেক বায়ার পেয়ে যাবেন। ছাত্র অবস্থায় আয় করার জন্য বোধ হয় সবচেয়ে ভালো একটি মাধ্যম। বর্তমানে আমিও একজন ছাত্র হিসেবে এই পেশায় নিয়োজিত রয়েছি।

০২- অনলাইন এসিস্ট্যান্ট জব

অনলাইন এসিস্ট্যান্ট জব বা ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট যেটাই বলেন না কেন। সবচেয়ে বেশী টাকা আয় করার কাজের মধ্যে অন্যতম। ছাত্র অবস্থায় আমরা কখনোই একটি ফুল টাইম চাকরি করার সময় পাই না। আমরা আমাদের পড়াশোনার ফাকে যে সময় টুকু পেয়ে যাই, সেটুকু কাজে লাগিয়ে অনলাইন থেকে আয় করতে চাই। এজন্য ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট আপনার জন্য সেরা হতে পারে।

প্রতিটি কোম্পানি তার কাজের জন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। কোম্পানি অনেক সময় সব কাজের জন্য লোক নিয়োগ দিতে পারে না। সেই কাজ গুলোত প্রয়োজন পড়লে অনলাইন এর মাধ্যমে কাউকে দিয়ে করিয়ে নেই। তাকে পার্মানেন্টভাবে রেখেও দেয়।

বিষয়টা আরেকটু পরিস্কার করে দেই। ধরুন, আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখানে একজন এসএইও এক্সপার্ট নিয়োগ দিয়ে ফুল টাইম বেতন দেয়া অনেক বেশী খরচ হয়ে যায়। আপনি কি করলেন অনলাইন এর মাধ্যমে কাউকে রেখে দিলেন যিনি অল্প টাকায়, আপনার কাজ গুলো ঠিক ভাবে করে দিলো। এগুলোকেই বলা হয় ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট।

সাধারণত, ইমেইল লেখা, সাইট কাস্টমাইজ করা, ব্লগ পাবলিশ করা, সোশ্যাল মিডিয়া দেখাশোনা করা ইত্যাদি আরো অনেক ক্যাটাগোরিতে ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট রাখা হয়। আপনি ছাত্র অবস্থায় এই কাজটি কোনো সমস্যা ছাড়াই করতে পারবেন। আর ভালো পরিমাণ টাকা আয় করার সুযোগ তো আছেই। ভার্চুয়াল এসিস্যন্ট এর জব গুলো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে ব্যাপক রয়েছে। আপনার পছন্দ ও দক্ষতা অনুযায়ী যে কাজটি পারেন সেটার উপরে হয়ে যান ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কীভাবে করে , এবং কিওয়ার্ড রিসার্চ এর জন্য কী প্রয়োজনীয় টুল

০৩- অনলাইনে টিউশনি

ছাত্র অবস্থায় টাকা ইনকাম করার অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো প্রাইভেট পড়ানো। করোনাকালীন সময়ে আমরা আমাদের শিক্ষাকে অফলাইনে বেধে না রেখে অনলাইন মুখি করতে শিখেছি। বর্তমান সময়ে প্রচুর পরিমাণে ছাত্র অনলাইনে পড়াশোনা করায় অনেক বেশি আগ্রহী। মূলত আমাদের বাসার কাছে সব ধরনের শিক্ষক পাওয়া সম্ভবপর হয় না। এজন্য আমরা অনলাইন কাউকে খুজিঁ পড়াশোনা করার জন্য।

লেখাপড়া ও কাউকে কিছু বুঝিয়ে বলার দক্ষতা আপনার থাকলে আপনি অনলাইনে টিউশনি করে আয় করতে পারবেন। বেশিরভাগ ছাত্রদের একমাত্র আয়ের উৎস। এখানে টাকা আয়ের পাশাপাশি আপনার জ্ঞানের পরিধি কে বাড়াতে পারবেন। আমরা সবাই জানি টিউশনি কতটা সম্মানজনক একটি পেশা।

০৪- অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে আয় করুন

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে ছাত্রদের অগ্রাধিকার একটু বেশিই প্রধান্য পায়। আমরা সকলেই অবগত যে, মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ পওয়া, কাজ করা, গিগ তৈরি করা অনেকটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ছাত্র অবস্থায় আমরা অনেক বেশী সময় পেয়ে যাই। এ সময় গুলো মার্কেটপ্লেসগুলোতে দিলে আপনার সফল হওয়ার চান্স অনেক বেশী।

অজস্র কাজের সমন্বয় গঠিত মার্কেটপ্লেস। তার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু কাজ হলো- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, গেম ডেভেলপার, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, NFT ক্রিয়েটর ইত্যাদি। প্রতিটি কাজের জনপ্রিয়তা যেমন বেশী প্রতিযোগিতায় সমান বেশী। দেশের অধিকাংশ মানুষ ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় করতে মার্কেটপ্লেসগুলোকেই প্রধান্য বেশী দিয়ে থাকেন।

০৫- ব্লগিং করে ছাত্র অবস্থায় আয় করুন

আপনার যদি লেখালেখি করতে মন চায় আপনি চাইলে নিজে একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করে আর্টিকেল পাবলিশ করে আয় করতে পারেন। কীভাবে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে হয় সেটা পরবর্তী পোষ্টে আমরা জানাবো।

ব্লগিং অন্যতম স্বাধীন একটি পেশা। আপনার দক্ষতারও বেশী প্রয়োজন নেই। সকল বিষয়গুলো ইউটিউব ঘেটে বের করে নিতে পারবেন। এসইও, কনটেন্ট অপটিমাইজেশন ইত্যাদি বিষয় গুলো যথেষ্ট। ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় এর ক্ষেত্রে দেশে প্রচুর পরিমাণে স্টুডেন্ট ব্লগার রয়েছে। ধরুন, আপনি কোনো বিষয়ে জানেন বা দক্ষ। সেটাকে সবার মাঝে লিখে ছড়িয়ে দেয়ার এক মাত্র মাধ্যম হলো ব্লগিং। ব্লগিং এর বিভিন্ন ক্যাটাগোরি রয়েছে যেমন- টেক, ইডুকেশন, জব, স্বাস্থ্য ইত্যাদি।

আমরা বিভিন্ন জিনিস সব সময় গুগল থেকে জেনে নিতে পছন্দ করি। আপনি বর্তমানে যে এই বিষয়টি পড়ছেন এটিও একটি ব্লগ সাইট। ব্লগিং শুরু করার জন্য বিভিন্ন প্লাটফর্ম রয়েছে ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস তার মধ্যে অন্যতম। একটি টপ লেভেল ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করে ছাত্র অবস্থায় অনলাইন আয় আজকে থেকেই শুরু করে দিন।

ইয়ারফোন ব্যবহার করলে কানের কি সমস্যা হয় এবং যেভাবে ইয়ারফোন এর সৃষ্ট সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়

ছাত্র অবস্থায় ব্যাবসা করে অনলাইনে আয়

বিশ্বের সকল কিছুই যেন এখন হাতের মুঠোয় চলে আসছে। আমাদের দৈনন্দিন কাজের প্রায় সকল কিছুই আমরা অনলাইন এর মাধ্যমে করতে পছন্দ করি। ব্যাবসার ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম নয়। ছাত্র অবস্থায় টাকা আয়ের অন্যতম ভালো একটি পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে অনলাইম বিজনেস। নিচে কিছু বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে শেয়ার করলাম। আপনি ছাত্র হলে আপনার সময় ও দক্ষতা অনুযায়ী যে কোনো একজন একটি করতে পারেন।

ছাত্রদের জন্য বিজনেস আইডিয়া

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় করার উপায়

০১- ডিজিটাল মার্কেটিং 

বর্তমান যুগকে বলা হয় ডিজিটাল যুগ। মানুষের প্রত্যাহিক কাজকে আরো বেশী সহজলভ্য করে তোলার জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্লাটফর্ম। ফেসবুক তার মধ্যে অন্যতম। এসব ডিজিটাল প্লাটফর্ম গুলোকে ব্যাবহার করে মার্কেটিং করা হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে অনেক গুলো ভাগ রয়েছে যেমনঃ সিপিএ মার্কেটিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি।

ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বিস্তর একটি প্লাটফর্ম। ছাত্র অবস্থায় যারা আয় করতে চাচ্ছেন তাদের এতটা বিস্তৃত করার প্রয়োজন নেই। অন্যের পন্য গুলোকে সোশ্যাল মিডিয়াতে এডস বা বুস্টিং ব্যাবহার করে পাবলিসিটি করে দিন। পরিবর্তে আপনি ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এর জন্য আপনার বেশী কিছুর প্রয়োজন পড়বে না। একটি অনলাইন ডেবিট কার্ড যে গুলো আপনি ” ব্লু বার্ড” স্বল্প মূল্যে তৈরি করে নিতে পারবেন।

ফাইবার, আপওয়ার্কের মত প্লেসে বিভিন্ন বায়ার শুধুমাত্র ফেসবুক বুস্টিং এর জন্য লোক খুজতে থাকে। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, ২০/৩০ মিনিটের কাজের জন্য লোক কেন খুজে? তারা চাইলে তো নিজেরাও করতে পারে। প্রথমত, তারা ৩০ মিনিটে অনেক বেশি উপার্জন করে তাই সময়ের মূল্য বেশী। ফেসবুকে বুস্টিং এর ক্ষেত্রেও অনেক বিষয় গুলো মানতে হয় যেমন- পণ্য অনুযায়ী বয়স নির্ধারণ, ক্রিয়েটিভ ডিজাইন, ক্রিয়েটিভ আর্টিকেল।

সব দিক বিবেচনা করলে একটি সুন্দর এডস তৈরি করতে অনেক সময় চলে যায়। আর ছাত্র অবস্থায় ফ্রি সময়ে এগুলো করা তেমন কোনো ব্যাপার নয়। ছাত্রদের জন্য আয়ের বেশ ভালো একটি মাধ্যম হলো অনলাইন, যদি আপনি কাজে ব্যাবহার করতে পারেন।

০২- বই বিক্রি – ছাত্রদের জন্য ব্যাবসা

যারা লেখাপড়া করেন তাদের কাছে বই ক্রয় করাটা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। প্রতিটি ক্লাসের জন্য প্রতিনিয়ত টেক্সট বইয়ের পাশাপাশি সাজেশন, গাইড, মডেল ইত্যাদি বই এর প্রয়োজন হয়। সব শিক্ষার্থীদের নতুন বই বাজার থেকে ক্রয় করা সম্ভব হয় না। তারা সবসময় সেকেন্ড হ্যান্ড বই গুলো ক্রয় করে পড়াশোনা করে।

আপনি পুরাতন বই গুলো সংগ্রহ করে সেগুলো রিপেয়ার করে যে বই গুলো বিক্রি উপযুক্ত সেগুলো আলাদা করে দেশের সব প্রান্তে বিক্রি করতে পারেন অনলাইন এর মাধ্যমে। অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক ফেসবুক গ্রুপ গুলোকে টার্গেট করুন। বই গুলো কেন প্রয়োজন? ছবি ব্যাবহার করে স্বল্প মূল্যে লাভ্যাংস রেখে অর্ডার গুলো গ্রহণ করতে পারেন। এরপরে আপনি “রেড এক্স” বা ” সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ” মাধ্যমে দেশের যে কোনো স্থানে বই গুলো পাঠাতে পারবেন।

০৩- পোষাক এর ব্যাবসা 

আমরা প্রায় সময় ফেসবুকে স্ক্রল করার সময় বিভিন্ন পোষাক এর এডস গুলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে আপনাকে কোনো ইনভেস্ট করার প্রয়োজন পড়ে না। আপনার পোষাক গুলোকে ক্রয় করার প্রয়োজন নেই। ভালো একটি ক্যামেরা ব্যাবহার করে যে ড্রেস গুলো বিক্রি করবেন সেগুলোর ছবি তুলুন। সুন্দর আর্টিকেল এর মাধ্যমে ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। কোনো ক্রেতা যেন দেখার সাথে সাথে আপনার পন্যটি ক্রয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে।

ফ্রি ফায়ার এবং পাবজির জন্য সেরা ভিপিএন ফ্রি ডাউনলোড করুন ২০২২

আপনি যদি টার্গেটেড কাস্টমার পর্যন্ত পৌছতে পারেন তাহলে অবশ্যই তারা ক্রয়ের জন্য অর্ডার প্লেস করবে। অর্ডার প্লেস করার পর দোকান থেকে পণ্যটি কালেক্ট করে রেডেক্স এর মাধ্যমে দেশের সবখানে পণ্য ডেলিভারি করে দিন। ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় করার অন্যতম ভালো একটি উপায় এটি।

০৪- পুরাতন মোবাইল ক্রয় – বিক্রয় ব্যাবসা

দেশের প্রতিটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যাবহার করে থাকে। কিন্তু সকলে নতুন স্মার্টফোন ক্রয় করতে পারেনা। একটি নতুন ভালো স্মার্টফোন এর দাম স্বভাবতই অনেক বেশী থাকে। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিক্রয়.কম থেকে মোবাইল ক্রয় করে থাকে।

পুরাতন ফোন গুলোকে সংগ্রহ করুন। কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা সাধারণ একটু সমস্যা হলেই সে ফোনটি ব্যাবহার করেন না। সেগুলো বাসায় গিয়ে কালেক্ট করে নিন। ভালো ভাবে রিপেয়ার করে ফেসবুক ও বিক্রয়.কম এ এডস দিয়ে দিন। এতেও আপনার অতিরিক্ত খরচ হবে না। খুব অল্প খরচে এই ব্যবসা আপনি শুরু করতে পারবেন। মূলত এগুলো ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয়ের ভালো একটি মাধ্যম।

০৫- গেম টপাপ বিজনেস 

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে গেম অনেক বেশী জনপ্রিয়। অনেক মানুষ এই গেম খেলেন রেগুলার। ২০১৯/২০ এর দিকে এন্ড্রোয়েড এর নতুন আপডেট এর ফলে আমরা আগে যেসব গেম পিসি তে খেলতাম সেগুলো চাইলেই এখন এন্ড্রয়েডের মাধ্যমে খেলতে পারছি। আগে অফলাইন গেম এর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশী।

এখন মাল্টি-প্লেয়ার, অনলাইন গেম গুলো সমান জনপ্রিয়তা লাভ করছে।গেমের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে ইন গেম বিভিন্ন আইটেম ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা। যেমন- ফ্রি ফায়ার বা পাবজি গেমে আপনাকে ডায়মন্ড বা ইউসি ক্রয় করতে হয়। সকলে গেমের সাথে জড়িত থাকলেও সবার কাছে ডেবিট কার্ড বা পেপ্যাল একাউন্ট না থাকার ফলে তাদের থার্ড পার্টি থেকে গেমগুলো খেলতে টপাপ করতে হয়।

আপনি চাইলেই গেম এর টপাপ বিজনেস অনলাইন এর মাধ্যমে করতে পারেন৷ সর্বনীম্ন ৫ ডলার ইনভেস্ট নিয়ে কাজটি শুরু করতে পারেন। সবার আগে একটি পেপ্যাল একাউন্ট বা একটি অনলাইন ডেবিট কার্ড নিন অথবা গুগল গিফট কার্ড ক্রয় করুন। এগুলো আপনারা দারাজ থেকে অল্প দামেই ক্রয় করে নিতে পারবেন।

ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড চুরি ! যেভাবে পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই কানেক্ট করবেন ।

ক্রয় হয়ে গেলে সেটাকে গুগল প্লেস্টোরে যোগ করে নিন। এখান থেকে যে কোনো গেমের যে কোমো আইটেম আপনি ক্রয় করতে পারবেন খুব সহজে। এ ক্ষেত্রে লাভ আপনার ২ দিক থেকে হবে। প্লে স্টোর থেকে প্রতিটি পারসেস এর জন্য আপনাকে রিওয়ার্ড প্রদান করা হবে। অন্য দিকে আপনি যাকে টপাপ দিবেন সেখান থেকে ৫/১০ টাকা লাভ থাকবে। ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় এর সেরা একটি মাধ্যম এটি। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করতে পারেন টপাপ বিজনেস এর ক্ষেত্রে। যাতে ক্রেতা আপনাকে খুব সহজেই অনলাইন এর মাধ্যমে খুজে পায়। যত বেশী টপাপ আপনি অন্যকে দিতে পারবেন তত লাভ পরিমাণ লাভ হবে আপনার।

আমাদের শেষ কথা

ছাত্রদের জন্য অনলাইন আয় একটি আর্টিকেলে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম। আপনি যেহেতু এই পর্যন্ত পড়ছেন ধরেই নিলাম আপনি একজন ছাত্র যিনি কিনা অনলাইন থেকে আয় করতে চাচ্ছেন। অনলাইন থেকে টাকা আয় করার জন্য ধৈর্য ও শ্রম দুটোর অনেক বেশী প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আমরা যে বিষয়ের উপর একদম দক্ষ নয় সেটার উপর কাজ করতে যাই। যার ফলে সফলতা পেতে আমাদের অবেন বেশী সময় অপেক্ষা করতে হয়। এক্সপেরিয়েন্স একটা মানুষ কে সফলতার দিকে অগ্রসর করতে বাধ্য করে। অনলাইন এর আয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতার বিকল্প নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top